ছবিঃ সংগৃহীত
নতুন কুঁড়ি’র দ্বিতীয় আসরে অংশ নিতে এরই মধ্যে অনলাইনে নাম নিবন্ধন করেছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ২১৮ জন। আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে আসরটির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ উপলক্ষে আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো: আমিনুল হক জানান, প্রথম আসরে নিবন্ধন করেছিল মাত্র এক লাখ ৬৮ হাজার জন; এবার সংখ্যাটি তার কয়েকগুণ ছাড়িয়েছে। নিবন্ধিত খেলোয়াড়দের নিয়ে ৪৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গড়া হবে, আর এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ এবারের আসরে খেলবে। আগামী বছরের মে বা জুন মাসের মধ্যে ফাইনাল রাউন্ড শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
নিবন্ধিতদের ৫৮.২ শতাংশ, অর্থাৎ ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩ জন, কিশোর বা বালক। আর কিশোরী বা বালিকা নিবন্ধন করেছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ১৩৫ জন, যা মোটের ৪১.৮ শতাংশ।
খেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি নাম এসেছে ফুটবলে—৯ লাখ ১৮ হাজার ৬২০ জন, যা মোট নিবন্ধনের প্রায় ৩৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যাথলেটিক্সে নাম লিখিয়েছে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ২১৮ জন। পরের অবস্থানগুলোতে ক্রমানুসারে রয়েছে ক্রিকেট (৩ লাখ ২৯ হাজার ৯১২), ব্যাডমিন্টন (২ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৩), কাবাডি (১ লাখ ৯০ হাজার ৯৪৭), দাবা (১ লাখ ৭১ হাজার ২২৯), সাঁতার (১ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১), ভলিবল (৭৪ হাজার ৮২৯), মার্শাল আর্ট (৩১ হাজার ৯৫১) ও টেবিল টেনিস (২৪ হাজার ৮০৭)।
মেয়েদের অংশগ্রহণের হার সবচেয়ে বেশি টেবিল টেনিসে—সেখানে নিবন্ধনকারীদের ৬০.৩ শতাংশই মেয়ে। উল্টো চিত্র ক্রিকেটে; এ খেলায় হারটি সবচেয়ে কম, ২১.৯ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক তালিকায় শীর্ষে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখান থেকে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৪১২ জন ছেলে-মেয়ে নাম লিখিয়েছে। জেলার হিসাবেও এগিয়ে চট্টগ্রাম; এ জেলা থেকে জমা পড়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮১ হাজার ১৩২টি নিবন্ধন।
মেয়েদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ তুলে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, এতে অনেকে উৎসাহ পাবেন এবং বহু পরিবার আগ্রহী হয়ে নিজেদের মেয়েদের খেলার মাঠে পাঠাবে। তাঁর ভাষায়, এই মেয়েদের হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারে—সব পরিবারই সেই আশার আলো দেখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে আনতেই নতুন কুঁড়ির আয়োজন। প্রথম আসরের বিজয়ীদের ভেতর থেকে বাছাই করা হয়েছে ৪০ জন সেরা প্রতিভাকে, যাদের ২৮ জন মেয়ে আর ১২ জন ছেলে। দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পড়াশোনার সুবিধা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাদের বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা তাদের হারিয়ে যেতে দিতে চাই না”; বরং প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তোলা এবং পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে সরকার। তাঁর মতে, নতুন কুঁড়ির হাত ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আমূল পরিবর্তন আসবে, আর খেলাধুলার মাধ্যমে বদলানো সম্ভব হবে সমাজব্যবস্থাও।
প্রতিমন্ত্রীর বিশ্বাস, প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থাপনা বদলাতে হলে বর্তমান প্রজন্মকে ক্রীড়াঙ্গনমুখী করা দরকার। খেলাধুলার মধ্য দিয়েই সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
খেলোয়াড়দের আগ্রহের কথা মাথায় রেখে গতবারের ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আর্টের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে আরও ২টি নতুন ইভেন্ট—টেবিল টেনিস ও ভলিবল।